মারণব্যাধি ক্যান্সারকে পরাজিত করতে বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতকে যোদ্ধা হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন সহধর্মিনী শিরিন হায়াত, স্ত্রীকে নিয়ে এমনটাই ভাষ্য আবুল হায়াতের। তিনি বলেছেন, ‘স্ত্রী তার সবচেয়ে বড় সহযোদ্ধা’।
আবুল হায়াত আরও বলেন, ‘আজকে আমি এই যে তিনটা বছর ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছি, শুধু তার কারণে। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, আই অ্যাম আ ফাইটার।’
শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার (২ নভেম্বর) আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘রবি পথ’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে, জীবনের এই ক্রান্তিকালের কথা যখন হায়াত বলছিলেন, তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশের।
৮০ বছর বয়সী হায়াতে ক্যান্সার আক্রান্ত হন তিন বছর আগে। ওই সময়ের কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে বাসা পর্যন্ত আর কথা বলতে পারিনি। আমার তো মন মানে না। রাতে খাবার খেয়েছি কি খাইনি, জানি না। বিছানায় শুয়ে পড়েছি। অন্ধকারে একা কাঁদছি। হঠাৎ টের পেলাম, উনি পাশে এসে শুয়েছেন। আমি তখনো নিঃশব্দে কাঁদছি। হঠাৎ ওনার একটা হাত আমার গায়ে এসে পড়ল। আমি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম।
রবি পথ-কর্মময় ৮০ শিরোনামের মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে হায়াত কথা বলার ফাঁকে মঞ্চে ডেকে নেন স্ত্রী শিরিন হায়াতকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, চিকিৎসক বললেন, আমার ক্যানসার হয়েছে। তখন এই মহিলা (শিরিন হায়াত) সারাক্ষণ আমাকে বলতে লাগল, আরে কী হয়েছে! এটা কি কোনো ব্যাপার নাকি! আমরা আছি। চিকিৎসা করব। যেখানে যা যা লাগে, আমরা করব। তুমি ভালো হয়ে যাবে। আমার মেয়েরা খবর পেয়েছে। তারাও বিভিন্নভাবে আমাকে বুঝিয়েছে।
ক্যান্সারের সঙ্গে এই যুদ্ধে স্ত্রী শিরিন তাকে ‘ফাইটার’ হতে শিখিয়েছেন জানিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘সারাটা জীবন আমার সঙ্গে, আমার দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, আনন্দ, সবকিছুতে সে ছিল।
নিজের জীবনের নানা কথা আর ঘটনা নিয়ে 'রবি পথ' বইটি সাজিয়েছেন এই অভিনেতা। প্রায় এক দশক ধরে বইটি লিখেছেন তিনি।